চিচিঙ্গার উপকারিতা (Benefits of Snake Gourd)

প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক ও মহাঔষধ নামে খ্যাত চিচিঙ্গা গ্রামের গৃহস্থ বাড়ির উঠানেই একসময় দেখা মিলত। কদর বেড়ে যাওয়ায় এখন বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হয় এই সবজির। এর গুণাগুণ সর্ম্পকে পুষ্টিবিদদের বক্তব্য হচ্ছে, শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণ বিচারে চিচিঙ্গা সত্যিকার অর্থেই এগিয়ে। কখনো অ্যান্টিবায়োটিকের মতো রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন, তাঁরা এই সবজি খাওয়ার বেলায় পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে নিন। চিচিঙ্গায় থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। মজার ব্যাপার হলো, চিচিঙ্গায় কিন্তু ক্যালসিয়ামের পরিমাণ শিম, আলু, কাঁচকলা, কুমড়া, বেগুন ও পটোলের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘বি১’ ও ভিটামিট ‘বি২’ আছে যথেষ্ট পরিমাণে। খাতা-কলমে হিসাব করে যদি বলি, প্রতি ১০০ গ্রাম চিচিঙ্গায় খাদ্যশক্তি থাকে ২৩ ক্যালরি, আমিষ ১ গ্রাম, শকর্রা ৪.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ১৬০ আইইউ, ভিটামিন ‘বি১’ ০.০৪ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘বি২’ ০.০৬ মিলিগ্রাম।

১. যাঁদের চুল ঝরে যাচ্ছে, চিচিঙ্গা তাঁদের জন্য খুব কার্যকর।

২. এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক; শরীরের রোগ প্রতিরোধে অনন্য ভূমিকা পালন করে।

৩. চিচিঙ্গা খেলে শরীরের যেকোনো ধরনের ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়।

৪. এতে প্রচুর আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

৫. এতে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান বিদ্যমান। তাই শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়।

৬. দেহের পানিশূন্যতা রোধ করতে পারে চিচিঙ্গা। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা হয়।

৭. জ্বরের সময় চিচিঙ্গা খেলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়।

৮. চিচিঙ্গা ডায়াবেটিস ও জন্ডিসের রোগীদের জন্য উপকারী।

৯. এই সবজিতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।